Government Documents as a Source of History / ইতিহসের উপাদান হিসেবে সরকারি নথিপত্র ।

Government Documents as a Source of History / আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চার উপাদান ব্যবহারের পদ্ধতি – সরকারি নথিপত্র ।

প্রাচীন ও মধ্যযুগের তুলনায় আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদানের সংখ্যা অনেক বেশী এবং তা অনেক নির্ভরযোগ্য । সরকারি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ নথি যেমন মহাফেজখানা বা আর্কাইভে সঞ্চিত থাকে । তেমন বেসরকারি নথি হিসেবে দলিল,দস্তাবেজ, চিঠিপত্র এমনকি ফোটোগ্রাফ প্রতিনিয়ত আবিষ্কার করা হচ্ছে । শুধু তাই নয় আধুনিক ভারতের ইতিহাসের উপাদান হিসেবে সংবাদপত্র এবং সাময়িক পত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের ফটোগ্রাফ এমনকি পারিবারিক অ্যালবাম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ।সাম্প্রতিককালে  ভিডিও ফুটেজ ইতিহাসের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ।

তবে উপাদানের বাহুল্য আবার সমস্যার তৈরি করে ।উপাদানের ভিড়ে অনেকক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সত্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে যায় ।ত বে যে  বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক যাচাই এর মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য খুঁজে বার করা ঐতিহাসিকদের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ ।

সরকারি নথিপত্রের প্রকারভেদ।

১। সরকারি নথিপত্র ।      ৬। সাময়িকপত্র ।

২। সরকারি চিঠিপত্র ।     ৭।সংবাদপত্র ।

৩। বেসরকারি চিঠিপত্র।  ৮। ছবি ।

৪। স্মৃতিকথা ।                  ৯। কার্টুন ।

৫।আত্মজীবনী ।               ১০। ভিডিও ।

১১। সাক্ষাৎকার ।            ১২। ডায়রি ।

সরকারি চিঠিপত্র মূলত দুই ধরণের হয় সাধারণ নথি এবং গোপন নথি ।

সাধারণ নথি মূলত সরকারের বিভিন্ন বিভাগের নীতি, কর্মসূচি ও কাজকর্মের কাগজপত্র, দলিল , দস্তাবেজ ।পূর্তবিভাগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রের পরিসংখ্যান এই নথিপত্র থেকে পাওয়া যায় ।কলকাতা কর্পোরেশনের সংরক্ষিত নথিপত্র থেকে কলকাতা নারায়ণের বিকাশ ও নানা দিক জানতে পারি ।গোপন নথি হিসেবে  সাধারণত পুলিশ ,গোয়েন্দা , স্বরাষ্ট্র বিভাগের নথিপত্রকে বোঝায় ।

মহাফেজখানা – গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণের প্রচেষ্টা ভারতে শুরু হয়েছিল মধ্যযুগে ।মুঘল আমলে একে বলা হতো মহাফেজখানা । তবে ইউরোপে বিভিন্ন দেশে আধুনিক পদ্ধতিতে এবং বিজ্ঞান সম্মতভাবে সরকারি নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য আর্কাইভ গড়ে উঠেছিল ।ভারতে ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় রেকর্ডস রুম খোলা হয়েছিল ।কলিকাতা,দিল্লি,বোম্বাই,মাদ্রাজে সরকারি উদ্যোগে নথিপত্র সংরক্ষিত হতো । বাংলায় সচিবালয় রেকর্ডস রুম ও কেন্দ্রীয় আর্কাইভ এবং রাষ্ট্রে স্টেট আর্কাইভ গড়ে উঠেছিল । ভারতের জাতীয় বা কেন্দ্রীয় আর্কাইভ দিল্লীতে অবস্থিত ।যদিও ভারতের বহু ঐতিহাসিক নথিপত্র বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় সংরক্ষিত আছে । লন্ডনে ‘ ব্রিটিশ লাইব্রেরি’ বা ‘ইন্ডিয়া অফিস রেকর্ডস’ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ।

আর্কাইভসের গুরুত্ব – আর্কাইভসে সংরক্ষিত নথিপত্র িতিহাস গবেষণার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ উৎস ।উদাহরণ হিসেবে মহাবিদ্রোহের সময়কালীন কোম্পানির প্রতিবেদন সরকারী আধিকারিকদের চিঠিপত্র,ডায়রি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।ভারতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে বা বিদ্রোহ দমনে সরকারী স্তরে অনেক কমিশন এবং রিপোর্ট তৈরি হয়েছিল, যেগুলি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বহু তথ্য তুলে ধরেছে ।

উদাহরণ হিসেবে হান্টার কমিশন ভারতে শিক্ষাব্যবস্থা এবং সংখ্যালঘুদের অবস্থা সম্বন্ধে জানতে পারি।অন্যদিকে জে.পি.গ্রান্ট নিযুক্ত নীল কমিশন রিপোর্টে নীলচাষ কিভাবে বাংলার কৃষি অর্থনীতির ওপর আঘাত হেনেছিল তা জানতে পারি। আবার বীরভূম, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর,উত্তর বালেশ্বর এলাকার সাঁওতাল বিদ্রোহ সম্পর্কে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের রিপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ তা থেকে সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রতি কোম্পানির দৃষ্টিভঙ্গি এবং পদক্ষেপের পরিচয় পাই ।

চিঠিপত্র – সরকারী এবং বেসরকারীস্তরে বিভিন্ন আধিকারিকদের মধ্যে আদানপ্রদান হওয়া চিঠিপত্র থেকে ঔপনিবেশিক ভারতে শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক এবং দৃষ্টিভঙ্গীর পরিচয় পাই ।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ভারতের জাতীয় আন্দোলনের এবং জাতীয় কংগ্রেসের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের মনোভাব আমরা জানতে পারি। ভাইসরয় ও অন্যান্য রাজকর্মচারীদের চিঠিপত্র থেকে ।লর্ড মেকলে, লর্ড ডাফরিনের চিঠিপত্র এক্ষেত্রে প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।

অনাদিকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ভারত সচিব জন প্রোডারিখকে লেখা লর্ড কার্জনের চিঠিপত্র এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পুলিশ কমিশনার ওল্ডহ্যামের গুপ্ত প্রতিবেদন থেকে ব্রিটিশ সরকারের প্রকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জানা যায় ।

ইংরেজ আধিকারিকদের পাশাপাশি ভারতীয় নেতৃবৃন্দের ব্যক্তিগত  চিঠিপত্র যেমন –জওহরলাল নেহেরু,সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের চিঠিপত্রের কথা বলা যায় ।ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া গান্ধীজীর ৯৩ টি চিঠিপত্র এং গান্ধীজীকে পাঠানো সরকারের ৪৮টি চিঠিপত্রের ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম ।

গোয়েন্দা রিপোর্ট- এদেশে পুলিশ বিভাগ ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে একটি গোয়েন্দা বিভাগ গড়ে তোলা হয়েছিল ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ।তার নাম হয় ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল ইনটেলিজেন্সি ডিপার্টমেন্ট’ ।স্বাধীন ভারতে এর নাম হয় ‘ইনটেলিজেন্স ব্যুরো(IB)’ ।

ভারতীয় নেতৃবৃন্দের ওপর গোয়েন্দা বিভাগের নজরদারি গোয়েন্দা রিপোর্টে স্পষ্ট .এমনকি রামকৃষ্ণ মিশনের মতো মানবদরদী প্রতিষ্ঠানকে গোয়েন্দা রিপোর্টে ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দেওয়া হয়েছিল ।অমিয় কুমার সামন্ত ভারতের বৈপ্লবিক সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বহু গোয়েন্দা রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেছেন ।তবে সমস্ত গোয়েন্দা রিপোর্ট এখনো প্রকাশ্যে আসেনি । নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান বিষয়ে গোপন রিপোর্টে এখনও সমস্তটা প্রকাশ্যে আসেনি ।